শনিবার ● ৮ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » ৩১ শয্যার জনবলও অর্ধেকেরও কম, চলছে ৫০ শর্যার স্বাস্থ্যসেবা, ভোগান্তিতে প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ
৩১ শয্যার জনবলও অর্ধেকেরও কম, চলছে ৫০ শর্যার স্বাস্থ্যসেবা, ভোগান্তিতে প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ
ইউছুফ আলী মিঠু, নিউজ এ্যাডভান্স
![]()
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্ধেকেরও কম জনবল। কিন্তু নামেই চলছে ৫০শয্যার হাসপাতাল। চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ।
প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকায় জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে রোগীদের যেতে হচ্ছে জেলা শহরসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা, তেমনি পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আর জনবল শূন্যতা পূরণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় উপজেলার সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকেই জনবল সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জানা যায়, ১৯৭৩ সালে ৩১ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু হয়। পরে ২০১৫ সালে এটাকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু লোক দেখানো ৫০শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি সেবার মান।
![]()
৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫শ’ থেকে ৭শ’ রোগী চিকিৎসা নিতে ভিড় করেন। ৫০ শয্যার বিপরীতে ৮০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকেন নিয়মিত। বিপুল সংখ্যক এই রোগীর জন্য ৩১ শয্যার বিপরীতে ৩১জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও ১৪টি পদই শূন্য রয়েছে। ১৭ জন চিকিৎসক কাগজে কলমে থাকলেও আবার এদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত নন। এনেস্থেশিয়া, শিশু, গাইনিসহ ১১ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও শুধু মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আছেন।
এদিকে ৩১ শয্যার বিপরীতে ২৫ জন নার্সের মধ্যে আছে ১৯ । এ ছাড়াও মেডিকেল টেকনোলজিস ৬জনের মধ্যে ৩, ফিল্ড স্টাফ ৫৩ জনের মধ্যে আছেন ২০ জন। প্রধান সহকারি, হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারি, কম্পিউটার অপারেটরসহ অন্যান্য পদে ২৫ জন থাকার কথা থাকলেও ১৮টি পদই শূণ্য রয়েছে।
প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কাজেও রয়েছে নানা বিড়ম্বনা। চতুর্থ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ কুক পদটিও রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। ফলে রোগীদের খাবার তৈরি ও বিতরণে রয়েছে নান অনিয়ম। হাসপাতালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (কার্ডিওলজিস্ট)। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে এ পদটিও শূন্য রয়েছে এবং বর্তমানে কার্ডিওগ্রাফারও নেই অনেকদিন থেকে।
এদিকে সারাদেশে হামের উপদ্রব বেড়ে যাওয়া এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও প্রতিনয়ত বাড়ছে হামের রোগী। ফলে অল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে এত বড় হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে করে চিকিৎসা বঞ্চিতসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীও সাথে থাকা স্বজনদের।
সরজমিন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, ৫০শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সীট এবং মেঝেতে প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যায় বেশি। হামের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জ্বর নিয়ে আসা শিশু রোগীদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন রোগীর স্বজনরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী জানান, ‘কোনো রোগী আজকে ভর্তি হলে পরের দিন একজন চিকিৎসকের খোঁজ পান তারা। এ সময়ে রোগী কষ্টে মরে গেলেও নার্স ছাড়া কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায় না। এছাড়াও খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে অনেকদিন ধরেই চিকিৎসসহ জনবলের সংকট রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছে। এরপরও যে জনবল রয়েছে, তাই দিয়ে তারা মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’





লক্ষ্মীপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
কমলনগরে গাছ কেটে প্রবাসীর বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ
রায়পুরে জেলের বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
রায়পুরে অস্বাস্থ্যকর ভেজাল ও নকল শিশু খাদ্যে ছয়লাব
কমলনগরে পুড়ে ছাই একটি জেলে পরিবারে স্বপ্ন
লক্ষ্মীপুরে ভেজাল ঘি’র কারখানায় অভিযান, ৩লাখ টাকা জরিমানা
কমলনগরে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা 