শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
---

Newsadvance24
মঙ্গলবার ● ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » রায়পুরে দুর্গমচরের ৭ হাজার মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে পারে একটি সেতু
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » রায়পুরে দুর্গমচরের ৭ হাজার মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে পারে একটি সেতু
২০৮ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রায়পুরে দুর্গমচরের ৭ হাজার মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে পারে একটি সেতু

আবদুল লতিফ, নিউজ এ্যাডভান্স

---

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পশ্চিম চরঘাসিয়া গ্রামে চান্দার খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অর্থায়নে দীর্ঘকাল আগে কাঠের পাটাতনে নির্মিত সাঁকো দিয়ে বহুদিন চলাচল করেছেল ওই এলাকার সাত হাজার মানুষ। সেটিও বিগত ৫ বছর আগে ভেঙ্গে গিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বৃদ্ধ, কৃষক,নারী ও শিশু ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ প্রায় সাত হাজার মানুষকে। খালের জোয়ারের তোড়ে অস্থায়ী পাটাতন ধসে যাওয়ার পর এখন ভাঙা বাঁশের চাটাই ও ভেলাই চরের মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশ বড়। এখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটারের বসবাস।

চান্দার খালের পশ্চিম পাশের চর ঘাসিয়া, চর ইন্দুরিয়া, চর জালিয়া, নতুন কানিবগার চর এবং মেঘনা নদীর ওপারে বরিশালের হিজলা উপজেলার একাংশের মানুষ প্রতিদিন এ পথেই রায়পুর উপজেলা সদর ও খাসেরহাটে যাতায়াত করেন। সড়ক সুবিধা না থাকায় মাইলের পর মাইল কাদাযুক্ত কাঁচা রাস্তা হেঁটে পাড়ি দিতে হয় তাদেরকে। দুর্ভোগ নিরসনে ২০২১ সালে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর একটি অস্থায়ী পাটাতন নির্মাণ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি খালের অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে পাটাতনের পশ্চিম অংশের ভিত্তি ধসে পড়ে। এরপর থেকে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এ নাজুক পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। পশ্চিম চর ঘাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, অনেক সময় ভেলা দিয়ে খাল পার হতে গিয়ে শিক্ষকরাও পানিতে পড়ে যাচ্ছেন।খালের পানি সাঁতরে কিংবা কাপড়ে কাদা মেখে পার হতে হয় বলে ভয়ে শিশুরা বিদ্যালয়ে আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এতে উপস্থিতির হার উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও তৈরি হয়েছে চরম স্থবিরতা। স্থানীয় বাসিন্দা করিম মাঝি ও মনু মিয়া জানান, চরে প্রচুর পরিমাণে সয়াবিন, ধান ও শাকসবজি উৎপাদিত হলেও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে তা বাজারে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, কোনো জরুরি রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথ বন্ধ; বাধ্য হয়ে কাঁধে করে কিংবা খাটিয়ায় ঝুলিয়ে কাদাপথ পাড়ি দিতে হয়। চরের বাসিন্দারা অবিলম্বে কাঁচা রাস্তা সলিং করা এবং চান্দার খালের ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক জানান, বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





আর্কাইভ