শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২
---

Newsadvance24
বুধবার ● ৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » কমলনগরে মসজিদের ২৬ কোটি টাকার সম্পত্তি ‎প্রভাবশালীদের দখলে
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » কমলনগরে মসজিদের ২৬ কোটি টাকার সম্পত্তি ‎প্রভাবশালীদের দখলে
১৯ বার পঠিত
বুধবার ● ৮ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কমলনগরে মসজিদের ২৬ কোটি টাকার সম্পত্তি ‎প্রভাবশালীদের দখলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, নিউজ এ্যাডভান্স

---

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)  : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ৪১ বছর ধরে একটি জামে মসজিদের প্রায় ২৬ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মুন্সিরহাট বাজারের এই মূল্যবান জমিটি মসজিদের নামে ওয়াক্ফ করা হলেও, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে তা নিজেদের নামে রেকর্ড করে ভোগদখল করছেন বলে জানা গেছে। একদিকে অর্থাভাবে মসজিদের ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, অন্যদিকে মসজিদের ৫২ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যক্তিগত দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

‎সম্প্রতি চরমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের (ইউপি) সদস্য ছিদ্দিক উল্লাহ দোকান নির্মাণ করতে গেলে মসজিদ কমিটির লোকজন বাঁধা দেয়। এতে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। বর্তমান সময়ের বাজার মূল্যে প্রতিটি দোকান ভিটির দাম ৫০থেকে ৬০লক্ষ টাকা বলে জানান ব্যবসায়িরা।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরমার্টিন এলাকার ছিদ্দিক উল্লাহ মুন্সি ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ ইং সনে ৯০০৯ নাম্বার ও ৮৫৮৩ নাম্বার দলিলে ২৪১ নাম্বার খতিয়ানের ৪০৯ এবং৩০৭ দাগে ৬৯শতাংশ জমি মুন্সিরহাট বাজারে মসজিদের জন্য ওয়াক্ফ করেন। ওই সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি মৃত খবিরুল ইসলাম সেক্রেটারি নুরুজ্জামান মোল্লা, স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত ছৈয়দ আহমদ ডিএ, আবদুল লতিফ মেম্বার, শাহে আলম, খোরশেদ আলম মেম্বার, আবু বকর ছিদ্দিক,  নুরু মিয়া দরবেশ, হাবিব উল্লাহ মিয়া ও শরিয়ত উল্লাহ মিয়াসহ অনেকের নজরে পড়ে। পরে ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালে নতুন রেকর্ডের কার্যক্রম শুরু হলে কৌশলে তারা ৫২ শতাংশ জমি বাজারের দোকান ভিটি উল্লেখ করে তাদের নামে রেকর্ড করে  এবং তাদের দখলে নেয়। বাকি ১৭শতাংশ জমি বাজারের গলি হিসেবে ১নাম্বার খাস খতিয়ানে চলে যায়। এরপর ওই দখলদারদের অনেকেই রেকর্ড মূলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সময়ে অনেকের কাছে বিক্রি করে দেয়। দীর্ঘদিন থেকে কেউ রেকর্ড মূলে ক্রয় করে আবার অনেকে ওয়ারিশ সূত্রে পেয়ে ওই সব দোকানঘর ভাড়া অথবা ব্যবসা করে আসছেন। এ দোকান ভিটিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছিদ্দিক উল্লাহ মুন্সির ছোট ছেলে যুবদল নেতা ফারুক মুন্সি রাতারাতি যুবলীগ বনে যান। তখন ফারুক মুন্সি যুবলীগের ক্ষমতা দেখিয়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পীকে মুন্সিরহাট বাজার মসজিদের সভাপতি এবং নিজে সেক্রেটারি ঘোষণা দেন। এরপর ফারুক এ দোকান ভিটিগুলো তাদের সম্পত্তি দাবি করে ব্যবসায়িদের দখল ছাড়তে হুমকি ধমকি দিয়ে বিভিন্ন  সুবিধা নিতেন । এক পর্যায়ে পরে ওই বাজারের কয়েকটি ভিটির মালিকদের জন্য আদালতে মামলাও করেন তিনি। এখনো ওই মামলা চলমান।

---

বর্তমান মসজিদ কমিটির প্রচার সম্পাদক আলী হোসেন ভিডিপি বলেন, মসজিদটি দীর্ঘদিন থেকে জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায় আছে। এখন জানতে পারি মসজিদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি অনেকের দখলে। ব্যবসায়িদের সাথে বসে সমাধানের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

‎আবার দখলদার মধ্যে অনেকে দাবি করছেন, ছিদ্দিক উল্লাহ মুন্সি মসজিদে জমি দান করে পরে আবার তাদের কাছে ভিটি হিসেবে বিক্রি করেছেন। আপনারা কেন দলিল নেননি? এর জবাবে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

‎এ দিকে চরমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় (ইউপি) সদস্য ছিদ্দিক উল্লাহ বলেন, রেকর্ড মূলে ওয়ারিশ সূত্রে তিনি এ জমির মালিক। যার কারনে তিনি দোকানঘর নির্মাণ করছেন বলে জানান তিনি।

‎এ বিষয়ে জমিদাতার আরেক ছেলে মুন্সিরহাট জামে মসজিদের বর্তমান সভাপতি এবিএম বাবুল মুন্সি বলেন, আমার বাবা এ মসজিদে ৬৯ শতক জমি দান করেন। পরবর্তীতে আমার বাবার নামে বাজার হওয়ার পর ৫২ শতাংশ জমি একটি চক্র কৌশলে তাদের নামে রেকর্ড নিয়ে জমিগুলো দখল করে নেয়। এখন বিএনপি সরকার গঠনের পর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিক উল্লাহ মসজিদে পাশের এক অংশে তাদের নামে রেকর্ড আছে বলে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। আমরা মসজিদের বিভিন্ন কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করার এখন প্রকৃত ঘটনা জানতে পারি। এ মুহূর্তে  মসজিদের  সম্পত্তির পুনরুদ্ধারে  প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে তিনি দাবি করেন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আরাফাত হোছাইন বলেন, মসজিদের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন তিনি।





আর্কাইভ