শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
---

Newsadvance24
সোমবার ● ১৮ অক্টোবর ২০২১
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » কমলনগরের মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া নিয়োগে কলেজছাত্রীদের দিয়ে সাজানো পরীক্ষা!
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » কমলনগরের মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া নিয়োগে কলেজছাত্রীদের দিয়ে সাজানো পরীক্ষা!
১৩৯০ বার পঠিত
সোমবার ● ১৮ অক্টোবর ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কমলনগরের মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া নিয়োগে কলেজছাত্রীদের দিয়ে সাজানো পরীক্ষা!

নিজস্ব প্রতিনিধি, নিউজ এ্যাডভান্স

 

---

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া নিয়োগে কলেজছাত্রীদের দিয়ে সাজানো পরীক্ষার অভিযোগ উঠেছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যোগ্য প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের খাতা গায়েব করে তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলমের বিরুদ্ধে। এছাড়াও পরিচ্ছন্ন কর্মী ও অফিস সহায়ক নিয়োগেও করা হয়েছে অনিয়ম। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার বিধবা মেয়ে জান্নাত বেগম।

জেলা প্রশাসক আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমীক সুপারভাইজার মো. আনোয়ার পারভেজকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন। সোমবার (১৮অক্টোবর ) সকালে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে জান্নাত বেগম স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ অনিয়মের কথা জানান।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্র জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট দৈনিক ইনকিলিাব পত্রিকায় আয়া, পরিচ্ছন্ন কর্মী ও অফিস সহায়ক এ তিন পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।  বিজ্ঞপ্তির আলোকে চরকালকিনি ইউনিয়নের মতিরহাট এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য প্রয়াত মুক্তিঙোদ্ধা আব্দুল মজিদ তালুকদারের মেয়ে জান্নাত বেগম আয়া পদে আবেদন করেন।

আবেদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক লোক মাধ্যমে জান্নাতের কাছে নিয়োগের জন্য এক লাখ টাকা দাবী করেন। জান্নাত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রধান শিক্ষক তিন কলেজছাত্রীসহ আয়া পদে ৫জনকে দিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সাজানোর পরীক্ষার আয়োজন করেন। ওই নিয়োগে টাকার বিনিময়ে জান্নাত বেগমকে বাদ দিয়ে তিনি তার পছন্দের প্রার্থী তানজিনা আক্তারকে চাকরি দেন। এ ঘটনায় পরের দিন ভুক্তভোগী জান্নাত বেগম জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এছাড়াও পরিচ্ছন্ন কর্মী ও অফিস সহায়ক পদেও মোটা অঙ্কের লেন দেন হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কলেজ পড়–য়া মারজাহান বেগম বলেন, স্যার আমাদের প্রথমে তার স্কুলে ডেকে নিয়ে একটি আবেদন পত্রে স্বাক্ষর নেন। এ বিষয়টি আমরা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, জরুরী প্রয়োজনে তোমাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে একদিন লক্ষ্মীপুরে যেতে হবে। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর স্যার আমাদের বাড়িতে থেকে ডেকে নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা করে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে যান। পরে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র হাতে দিয়ে আয়া পদে পরীক্ষা অংশ গ্রহণ করতে বলেন। স্যারের অনুরোধে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেই।

আরেক কলেজ ছাত্রীর বাবা আবু তাহের বলেন, আমাকে না জনিয়ে আমার এইচএসসি পাশ মেয়েকে দিয়ে আয়া পদে পরীক্ষা অংশ গ্রহণ করায়। শিক্ষকের এমন খামখেয়ালীপনা খুবই দু:খজনক। এমন অনিয়মের বিচার হওয়া উচিৎ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক আয়া, পরিচ্ছন্ন কর্মী ও অফিস সহায়ক পদে তার টাকার বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মুক্তিযেদ্ধার মেয়েকে বঞ্চিত করেছেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, এর আগের নিয়োগে রিয়াদ হোসেন নামে এক চাকরি প্রার্থী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ দিবে বলে এক লাখ টাকা নেয় ওই প্রধান শিক্ষক। চাকরি পাওয়ার আশ্বাসে ওই ব্যক্তি ছয় বছর বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে খন্ডকালীন শিক্ষক পদে চাকরীও করেন। কিন্তু গ্রন্থাগারিক পদে রিয়াদকে চাকরি না দিয়ে প্রধান শিক্ষক মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীকে চাকরি দেন। পরে রিয়াদ টাকা ফেরত চায়। টাকা না দেওয়ায় ওই প্রধান শিক্ষকের সাথে রিয়াদের বাগি¦তন্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল আলমকে সে লাঞ্ছিত করে।

মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল আলমের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিধি মোতাবেক তিন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পরীক্ষায় পাশ করেনি। কলেজছাত্রী দিয়ে পরীক্ষার দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

উপজেলা একাডেমীক সুপারভাইজার মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টির তদন্ত চলছে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, তদন্তের জন্য একাডেমীক সুপারভাইজারকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 





আর্কাইভ