শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
---

Newsadvance24
মঙ্গলবার ● ১৬ মে ২০২৩
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » ঝড় জলোচ্ছ্বাসে ঝুঁকিতে রামগতি-কমলনগরের ৫লক্ষাধিক মানুষ
প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » ঝড় জলোচ্ছ্বাসে ঝুঁকিতে রামগতি-কমলনগরের ৫লক্ষাধিক মানুষ
৩৬২ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১৬ মে ২০২৩
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঝড় জলোচ্ছ্বাসে ঝুঁকিতে রামগতি-কমলনগরের ৫লক্ষাধিক মানুষ

ইউছুফ আলী মিঠু, নিউজ এ্যাডভান্স

---কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : বেড়ীবাঁধ না থাকায় মেঘনা উপকূলীয় উপজেলা কমলনগর- রামগতিতে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৫লক্ষাধিক মানুষ। মেঘনা তীরবর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত বেড়ীবাঁধ না থাকায় এ ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। ছোট বড় ঘূর্ণিঝড় কিংবা ঝড়জলোচ্ছ্বাস হলেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়ারা। এতে আতঙ্ক বাড়ছে সাধরণ মানুষের মাঝে।বিগত বছরগুলোতে সামান্য বৃষ্টি, মেঘনায় অস্বাভাবিক জোয়ার ও ঝড়জলোচ্ছ্বাসে মেঘনা তীরবর্তী রামগতির বালুরচর, বয়ারচর, চরআব্দুল্লাহ, পোড়াগাছা, আসলপাড়াসহ প্রায় সব এলাকা এবং কমলনগরের চরকালকিনি, চরলরেন্স, সাহেবেরহাট, চরফলকন ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের সব এলাকা পানি বন্ধী হয়ে যায়। এতে সাধারণত মানুষের মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা গেছে। জানা যায় ১৯৮৮ সালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে মেঘনা নদীর ৩৩কিলোমিটার এলাকা বেড়ীবাঁধের আওতায় আনেন ততকালীন সংসদ সদস্য আসম আবদুর রব। দীর্ঘ সময় এ এলাকা সুরক্ষিত থাকার পর আবার ভাঙন শুরু হয়।মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে রামগতি-কমলনগরের অধিকাংশ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মানুষের দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৬ সালে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য রামগতিতে ২কিলোমিটার এবং কমলনগরে ১কিলোমিটা বেড়ীবাঁধের কাজ হয়। পরে ২০২১ সালের ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির-একনেক সভায় ৩ হাজার ৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাশ হয়। প্রকল্পের আওতায় মেঘনাপাড়ে ৩৩কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ৩ ধাপের কাজের প্রথম ধাপ হচ্ছে নদীপাড়ে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে পানির তীব্র স্রোত বন্ধ করা। ২য় ধাপে জিও ব্যাগের ৩০ মিটার দূরে মাটি দিয়ে উচু বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ৩য় ধাপে বাঁধের ওপর পাথরের তৈরি ব্লক ফেলে বাঁধ সংরক্ষণ করার কথা রয়েছে।
২০২১ সালের আগস্ট থেকে কয়েকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার আহবান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ৯৯টি লটে কাজ পায় ঠিকাদারা। প্রতি লটে ৩শ ৩০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মাতাব্বর হাটে কাজের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক।
স্থানীয়রা জানায়, উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় বালুর অভাব দেখিয়ে কয়েক মাস কাজ বন্ধ ছিল। চলতি বছরে কয়েটি পয়েন্টে শুধুমাত্র জিও ব্যাগের কাজের কিছুটা অগ্রগতি হয়। মাত্র একটি পয়েন্টে ৩শ মিটারের একটি বাঁধ তৈরি হয়। অন্য সবগুলো পয়েন্ট পুরো অরক্ষিত। ফলে ঝুঁকি আরো বাড়ছে।
---লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা যায়,বাঁধ নির্মাণের জন্য টেন্ডার হওয়া ৯৯টি লটের মধ্যে ৪৩ লটে প্রায় ১৪ কিলোমিটার বাঁধ নিমার্ণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৩ কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগের ড্যাম্পিং শুরু হয়েছে। কিন্ত একটি পয়েন্টেও ড্যাম্পিং শেষ হয়নি। এর মধ্যে মাত্র ৪ কিলোমিটার এলাকায় ৫০-৮০ ভাগ ড্যাম্পিং কাজ শেষ হয়েছে । যা ৩৩ কিলোমিটার পুরো প্রকল্পের ১০-১৫ ভাগ । ৩ হাজার কোটির টাকার প্রকল্পে এ পর্যন্ত প্রায় ২শ-আড়াইশ কোটি টাকার কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের পর থেকে ৪৩ লটের মধ্যে মাত্র ৮টি লটে (প্রতি লটে ৩৩০ মিটার) কাজ চলছে।

তবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, ঝড়ের কারণে অতিমাত্রায় জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস হলে জিও ব্যাগ স্থানচ্যুত হয়ে নদীতে পড়ে যেতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিকাদাররা আর দ্বিতীয়বার নির্মাণ করবে না। ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে প্রকল্প চলাকালীন সময়ে যে কোন ছোট বড় ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধের জিও ব্যাগ নষ্ট হলে বা অন্যকোন ক্ষতি হলে এলাকার জন্য বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। তাছাড়া যে কোন ঘূর্ণিঝড় কিংবা আমবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে বাঁধের জিও ব্যাগের কোন সামান্য ক্ষতি হলে ঠিকাদারগণ বড় অজুহাত দেখিয়ে দূর্নীতির সুযোগ পেয়ে যাবে। তারা হয়তো কাজ না করেও দেখিয়ে দিবে সেখানে কাজ হয়েছে, যা মেঘনায় চলে গেছে।
কমলনগর উপজেলার সাহেবের হাট ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার আবুল খায়ের বলেন, যে কোন ঝড়জলোচ্ছ্বাসে মেঘনা পাড়ের মানুষগুলো ঝুঁকিতে থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে বাঁধ নির্মাণের যে প্রকল্প পাশ হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা এ এলাকার মানুষের এখন সময়ে দাবি।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, ড্যাম্পিং করা জিও ব্যাগ নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে পারলেও বাঁধ শেষ না হলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সাথে তা লড়াই করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে ঝড় বা ভারী জলোচ্ছ্বাস ও পূর্ণিমার জোয়ার বাড়লে বাঁধের জিও ব্যাগের আশংকা তো থাকবেই। ফলে মোখাসহ যে কোন ঝড়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় বড় ক্ষতি হতে পারে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, মেঘনা পাড়ের মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকি এড়াতে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৩১শ কোটি টাকা একটি প্রকল্প পাশ হয়। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে সবাই সবার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। বাঁধ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ঝড়জলোচ্ছ্বাসে ঝুঁকি থাকবেই।





আর্কাইভ